
কৃষিতে নিরাপদ ও সুষম কীটনাশক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়েছে খুলনা বিভাগীয় কীটনাশক ব্যবসায়ী সম্মেলন ও বার্ষিক বনভোজন। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কৃষকের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং কীটনাশকের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের জোহান ড্রিম ভ্যালী পার্কে এ সম্মেলনের আয়োজন করে গোল্ডেন এগ্রোভেট লিমিটেড। দিনব্যাপী আয়োজনে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার কীটনাশক ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। সম্মেলনে আলোচনা সভার পাশাপাশি বার্ষিক বনভোজনেরও আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় গোল্ডেন এগ্রোভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিঠু চন্দ্র অধিকারী, মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর এবং কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গোল্ডেন এগ্রোভেট লিমিটেডের পরিচালক মোক্তার হোসেন।
সম্মেলনে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোরসহ খুলনা বিভাগের আটটি জেলার কীটনাশক ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, কীটনাশকের সুষম ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও কমবে। এ জন্য কৃষকদের নিয়ম মেনে কীটনাশক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যবসায়ীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, কৃষকের কাছে সঠিক পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া, অনুমোদিত কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।