
মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার রতনপুর এলাকায় ছোট বোনের সঙ্গে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় দুই ভাইসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে পঞ্চসার ইউনিয়নের পূর্ব রতনপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—শান্ত শেখ (২৫), রহমত উল্লাহ শেখ (২১) ও আকলিমা আক্তার (৫০)। এদের মধ্যে শান্ত শেখ ও রহমত উল্লাহ শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কৃষক ইছহাক শেখের সন্তান।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শান্ত শেখের ছোট বোন স্নিগ্ধা আক্তার (২০)—যার মাত্র এক মাস আগে বিয়ে হয়েছে—বাপের বাড়িতে বেড়াতে এলে স্থানীয় যুবক মো. মুন্না ও নাজমুল তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও ইভটিজিংমূলক আচরণ করে। বিষয়টি জানতে পেরে শান্ত শেখ ও রহমত উল্লাহ এর প্রতিবাদ করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই অভিযুক্ত মো. মুন্না (৩০), নাজমুল (৩২) ও ইউছুফ (৬৫) সশস্ত্র অবস্থায় শান্ত ও রহমতের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার রড, এসএস পাইপ, ধারালো চাকু ও সুইচ গিয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দুই ভাইকে গুরুতর জখম করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা আহতদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ঘটনায় আহতদের বড় বোন রানী আক্তার সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছোট বোনের সঙ্গে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় আমার দুই ভাইয়ের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তারা এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।”
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) সজিব দে বলেন, ঘটনার বিষয়ে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। খুব দ্রুতই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।