
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও তাপমাত্রা কমে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই দেশের কয়েকটি জেলায় শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার মধ্যে দেশের ৮ থেকে ১০টি জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তার মতে, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে সকালের দিকে ঠান্ডার অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশের সব জেলায় সকাল ৬টার সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা শীতের মাত্রা কিছুটা সহনীয় রাখতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় কুয়াশাও থাকতে পারে, যা ভোরের দিকে যান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এই নিম্ন তাপমাত্রা পরিস্থিতি আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়ার সিনপটিক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় দেশের ওপর শীতল বাতাসের প্রভাব বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা শীতজনিত অসুস্থতা এড়াতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ভোরের কুয়াশায় যান চলাচলের সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।