1. arifmolla2007@gmail.com : Arif Mollah : Arif Mollah
  2. hmonir19799@gmail.com : Hossain Monir : Hossain Monir
  3. rtbdnews@gmail.com : RT BD NEWS : RT BD NEWS
  4. info@www.rtbdnews.com : RT BD NEWS :
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন বৃষ্টি বলয়, ২০ মে পর্যন্ত বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা মডেল মসজিদে টিকটক ভিডিও করে বিতর্ক, জামালপুরে শিক্ষার্থী বহিষ্কার পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি দেবে সরকার মুন্সীগঞ্জে ইজারার আগেই কোরবানির পশুর হাটের প্রচারণা ঝিনাইদহে জমকালো আয়োজনে যাত্রা শুরু করলো এশিয়া পোস্ট জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দিঘলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রেসক্লাব সভাপতি শিক্ষানুরাগী মোল্লা মাকসুদুল ইসলাম ঝিনাইদহে কাল্ব’র বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলদিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমান খানের উঠান বৈঠক দিঘলিয়ায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠন

কাহারোলে ৩৩ কোটি টাকায় স্বপ্নের সেতু নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ পরিদর্শন করলেন যুগ্ম সচিব

সুকুমার রায়, কাহারোল, দিনাজপুর
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
দিনাজপুরের কাহারোলে ৩৩ কোটি টাকায় ১৫ গ্রামের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নের সেতু নির্মাণের ভূমি অধিগ্রহণ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান। সেতুটি হলে লাখো মানুষের দুর্ভোগ ঘুচে যাতায়াতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ১৫ গ্রামের মানুষের স্বপ্নের সেতু নির্মাণ কাজ। ৩৩ কোটি টাকার এ উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (নগর উন্নয়ন–১ অধিশাখা) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি কাহারোলের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পরমেশপুর এলাকায় ঢেপা নদীর তীরে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি পরিদর্শন করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পল্লী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আবু জাকির সিকান্দার, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান এবং উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আহমেদ। কর্তৃপক্ষ জানান, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে সেতুটি হবে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য যুগান্তকারী অবদান।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদী পারাপারে তাদের ভরসা কেবল বাঁশের সাঁকো ও বর্ষা মৌসুমে দুটি নৌকা। প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল এ ঘাট দিয়ে পার হয়, যার জন্য অনেককে ইজারাদারের কাছে ভাড়া দিতে হয়। স্থানীয় ঘাট ইজারাদার সুধীর চন্দ্র রায় প্রায় ১৮ বছর ধরে এ ঘাট পরিচালনা করছেন। তার ভাষায়, “পরিচিত মানুষের কাছে ভাড়া চাওয়া যায় না। কেউ দেয়, কেউ দেয় না। তবে সেতু হলে আমরা সবাই উপকৃত হবো।”

ঢেপা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ কিলোমিটার এবং এখানে দুই পাড়ের দূরত্ব প্রায় এক হাজার ফুট। শুকনা মৌসুমে ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চলাচল করে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঘাটপাড়ে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। নদীর দুই পাশে নির্মিত হয়েছে যাত্রীছাউনি, কিন্তু সেতুর অভাবে যাতায়াত ছিল চরম দুর্ভোগের।

পূর্বপাড়ের মানুষদের উপজেলায় যেতে ১৫ কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হয়। জেলা শহর বা সৈয়দপুর যেতে হলে বেড়ে যায় আরও ১৬-১৮ কিলোমিটার। সেতু হলে যাতায়াতের এ দূরত্ব কমবে ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত। ভ্যানচালক রিয়াজ উদ্দিন জানান, “রাত হয়ে গেলে ভ্যান পাওয়া যায় না। যাত্রীদের হাঁটতে হয় কয়েক কিলোমিটার। সেতুটি হলে এই কষ্ট আর থাকবে না।”

পরমেশপুর গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন মেম্বার নজরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন এমপি-মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সেতুর অনুমোদন হয়নি। এখন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ১৫ গ্রামের মানুষ স্বপ্নের সেতু হিসেবে দেখছেন এটি।”

উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ নিশ্চিত করেন যে ঢেপা নদীর ওপর প্রায় ২৮০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণে ৩৩ কোটি ২২ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মাটি পরীক্ষা, নকশা ও ড্রইং সম্পন্ন হওয়ার পর এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

এই সেতু নির্মাণ শেষ হলে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং রোগীদের যাতায়াত হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এই সেতুই বদলে দেবে তাদের জীবনের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অধ্যায়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 𝑹𝑻 𝑩𝑫 𝑵𝑬𝑾𝑺 আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট