1. rtbdnews@gmail.com : RT BD NEWS : RT BD NEWS
  2. info@www.rtbdnews.com : RT BD NEWS :
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কুমির ও সাপ দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা

আরটি বিডিনিউজ অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমিতে কুমির ও সাপ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বিএসএফ। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নতুন কৌশল।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমি এলাকায় এবার কুমির এবং সাপের মতো সরীসৃপ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। প্রাচীনকালে দুর্গ বা প্রাসাদের চারপাশে পরিখা খনন করে কুমির রাখার ইতিহাস আমরা জানি, একবিংশ শতাব্দীতে সেই কৌশল আধুনিক সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেল।

বাংলাদেশ ও ভারতের ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বড় অংশ নদীমাতৃক বা জলাভূমি বেষ্টিত। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনার ভিত্তিতে বিএসএফ এখন খতিয়ে দেখছে, যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে সাপ বা কুমির মোতায়েন করা যায় কি না। ২৬ মার্চ বিএসএফ-এর ইস্টার্ন এবং নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টর সদর দপ্তরে পাঠানো এক গোপন বার্তায় এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ প্রস্তাবটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু মিলও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অলিগেটর আলকাট্রাজ’ নামক ডিটেনশন সেন্টারের চারপাশে প্রাকৃতিকভাবেই কুমির ও অজগর থাকত, যা বন্দিদের পালানো রোধে কার্যকর। ২০১৮ সালে তিনি মেক্সিকো সীমান্তে এমন ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলেন, যদিও পরে তা কৌতুক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ভারত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বিএসএফ বর্তমানে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন। প্রায় ৬,২০০ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত ২.৬৫ লাখ কর্মীর একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যস্ত থাকে। এছাড়া ৪৫–৬০ বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ সদস্য এবং শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট নয় এমন আরও ২০ শতাংশ সদস্য রয়েছে। এই জনবল সংকট মেটাতে প্রকৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব এসেছে।

সীমান্ত সুরক্ষা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। তবে ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা বেড়াহীন, যার মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়ার অনুপযুক্ত। এই দুর্গম এলাকা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে সরীসৃপ মোতায়েনের বিকল্প কঠোর পদ্ধতিতে নজরদারি করা হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রকৃতিকে ব্যবহার করে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হলে সীমান্তবর্তী অপরাধ, চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিএসএফ-এর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর এবং আধুনিক হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 𝑹𝑻 𝑩𝑫 𝑵𝑬𝑾𝑺 আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট