
ঈদুল আজহার পর দেশে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ এবং সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোই জনপ্রতিনিধিহীন হয়ে পড়ে। ফলে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে ৩ হাজার ৭৫৫টি নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। এছাড়া বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি, ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ১১টি সিটি কর্পোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের জন্যও প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে—স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিলের প্রস্তাব। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার আইনে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিলের বিষয়টি বর্তমানে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব আইন হিসেবে পাস হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আর কোনো বাধা থাকবে না। এরপর দ্রুত নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক বাতিল হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ বাড়বে।
সবমিলিয়ে, দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকারে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।