
পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে এবং পাটশিল্পের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জ জেলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তর–এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পাটচাষী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। তিনি পাটশিল্পের ঐতিহ্য রক্ষা ও এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মোঃ এনায়েত হোসেন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর–এর অতিরিক্ত উপপরিচালক (ঊদ্যান) শান্তনা রাণীসহ বিশিষ্ট পাটচাষী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন।
“পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সভায় পাটশিল্পের সম্ভাবনা, পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পাটজাত পণ্য ব্যবহারে আগ্রহ সৃষ্টি করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এছাড়া পাট পচন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির আধুনিকায়ন, উন্নতমানের পাট আঁশ উৎপাদন এবং দেশের পাটকলগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সভায় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সম্পদ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাটশিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রেক্ষাপটে পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার শেষে সর্বস্তরে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।