প্রায় সাড়ে ১৩ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আল মুকাদ্দাসের পরিবারের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়নি। এখনও বৃদ্ধ বাবা-মা পথ চেয়ে আছেন, ছেলে ফিরবে এই আশায়। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে সহপাঠী অলিউল্লাহসহ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন মুকাদ্দাস।
পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাখুনিয়ারী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিম ও আয়েশা সিদ্দিকার বড় ছেলে আল মুকাদ্দাস ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ (এলএলবি) বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং অলিউল্লাহ ছিলেন অর্থ সম্পাদক।
মুকাদ্দাসের বাবা জানান, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কল্যাণপুর থেকে হানিফ পরিবহনের বাসে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তার ছেলে। বাসটি রাত ১টার দিকে সাভারের নবীনগরে পৌঁছালে ৮-১০ জন কালো পোশাকধারী র্যাব ও ডিবি পরিচয়ে মুকাদ্দাস ও অলিউল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ মেলেনি।
ঘটনার পরপরই ঢাকার দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৩১৭) করা হয়। হাইকোর্টে রিট, মানববন্ধন, ধর্মঘট, মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালনের পরও পরিবারের হাতে ফেরেনি মুকাদ্দাস। পুলিশ, র্যাব ও ডিবি গুমের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। এমনকি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রকাশিত গুম হওয়া ৭৬ জনের তালিকায়ও মুকাদ্দাস ও অলিউল্লাহর নাম রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপন বন্দিশালা থেকে অনেক নিখোঁজকে উদ্ধার করা হলেও মুকাদ্দাসকে পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৭ আগস্ট গুম তদন্ত কমিশন গঠনের পর নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে মুকাদ্দাসের পরিবার।
মুকাদ্দাসের মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “আমরা এখনও স্বপ্ন দেখি ছেলে একদিন ফিরে আসবে, মা বলে ডাকবে। যদি জীবিত থাকে তাহলে আমাদের হাতে ফিরিয়ে দিন। আর যদি মারা যায়, অন্তত কবরটা দেখার সুযোগ দিন।”
মুকাদ্দাসের বাবা মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “আমাদের একটাই চাওয়া—আমাদের ছেলের খোঁজ পাওয়া। গুমের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠিন বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”