পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারিবুনিয়া গ্রামের বিনাপানী বাজারে পাঠাগার ভাঙচুর ও চুরির মিথ্যা অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পূর্ব পশারিবুনিয়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে একই গ্রামের আ. কাদের ফরাজীর ছেলে আবু ফরাজী, জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছেলে শাহিন হাওলাদার, শাখায়েত মালাকারের ছেলে শিল্পপতি কায়ছার মালাকার, মমিন উদ্দিনের ছেলে দুলাল হাওলাদার, মুনসুর হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার এবং হেতালিয়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে জসিমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, উল্লিখিত স্থানে কোনো পাঠাগারই ছিল না। শুধুমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্যে মানহানিকর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পশারিবুনিয়া এনএম কারিগরি দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ছাইফুল্লা কালাম, এবতেদায়ি শাখার শিক্ষক মাওলানা আলী আকবর (বাদীর চাচাতো ভাই), স্থানীয় শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও পূজা মণ্ডপের পুরোহিতরা একযোগে জানান—ওই স্থানে কখনো কোনো পাঠাগার ছিল না। তাই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে মামলার বাদী আলমগীর হোসেন দাবি করেন, তিনি বিনাপানী বাজার বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদের সভাপতি। বর্তমানে মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে। মসজিদের পাশেই একটি পাঠাগার ছিল, যা ভাঙচুর করে আসামিরা ইট, খোয়া ও বালু নিয়ে গেছে। তাই তিনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তবে বাদীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, মামলার অন্যতম আসামি শিল্পপতি কায়ছার মালাকার ঘটনাস্থলের সময় ঢাকায় ছিলেন—তাহলে তাকে কেন আসামি করা হলো? এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভান্ডারিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “আদালতের আদেশে সিআর ৯২/২৫ (ভান্ডারিয়া) মামলাটি এজাহার হিসেবে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।