
ঝিনাইদহে তেল পাম্পের কর্মচারীদের মারধরে যুবক নিরব হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহতের পিতা আলিমুর বিশ্বাস বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার ভিত্তিতে আটক তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের বারইখালী গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে রবিজুল ইসলাম, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এবং সুরাট ইউনিয়নের কাস্টসাগরা গ্রামের সাফিয়ার রহমানের ছেলে দাউদ হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামসুল আরেফীন জানান, যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশন-এ বোতলে তেল কিনতে যান কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের যুবক নিরব হোসেন। সে সময় পাম্পের কর্মচারীরা তাকে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান। কিছুক্ষণ পর আবার সেখানে গিয়ে অন্য একজনকে বোতলে তেল দিতে দেখে তিনি প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পাম্পের কয়েকজন কর্মচারী লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা নিরবকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নিরব হোসেন ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পাশেই একটি ফাস্টফুডের দোকান পরিচালনা করতেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলেও জানা গেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ওই রাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শহরের আরাপপুর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশন ভাঙচুর করেন এবং গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে তিনটি বাসে আগুন দেন।
পরদিন রোববার সকালে বাসে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।