শেয়ারবাজারে কিছু সংস্কার কার্যক্রম চলছে, যা সাময়িকভাবে কিছু যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই সংস্কার শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ব্যাংকের ঋণনির্ভর অর্থনীতি টেকসই নয়। তাই শিল্প খাতে ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজারকে মূলধনের উৎস হিসেবে ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের শেয়ারবাজারের গভীরতা কম। ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে আগ্রহী নয়।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে এলে করপোরেট সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে। কিন্তু অনেক কোম্পানির মালিক এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চান না। তবে বাজারের গভীরতা বাড়াতে ভালো কোম্পানিগুলোকে আনতে হবে। এ জন্য করের সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা সরকার বিবেচনা করবে। কিছু সরকারি কোম্পানিকে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে যোগাযোগ আগের তুলনায় কমে গেছে। শেয়ারবাজারের স্বার্থে এই সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। বাজার–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দলগতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শেয়ারবাজারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ডিএসইসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আহ্বান জানান সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ভারতের শেয়ারবাজারে প্রবাসীদের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। আমাদের প্রবাসীদেরও বিনিয়োগের সামর্থ্য আছে। তাঁদের বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। এ জন্য শেয়ারবাজারকে আকর্ষণীয় করতে হবে।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “শেয়ারবাজারে সূচক বাড়লেই সবাই খুশি হন। কিন্তু বাজার যখন বেশি ওপরের দিকে যায়, তখন সতর্ক হতে হবে। অনেক সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল নীতির কারণে বাজারে সমস্যা দেখা দেয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। অতীতে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বেশি বিনিয়োগ করায় বাজার অনেক ওপরে উঠে গিয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই বিনিয়োগ কমানোর নির্দেশ দেয়, যা বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বক্তব্য দেন। এছাড়া বিএসইসির কমিশনার, শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং ডিএসইর পরিচালক ও ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।