চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া অ্যাসিডে দগ্ধ হয়ে ১০ মাস ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি) মারা গেছেন গৃহবধূ মিলি আক্তার (২০)। তিনি ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মিলি আক্তার মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম সুজাতপুর গ্রামের আয়ুব আলীর মেয়ে। ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে, মিলি যখন বাড়িতে ছিলেন, পার্শ্ববর্তী মমরুজকান্দি গ্রামের সফিকুল ইসলাম ওরফে মানিক এবং তার বন্ধু জাহিদ তাঁকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। ওই সময় মিলি ছিল অন্তঃসত্ত্বা এবং অ্যাসিডের আঘাতে তাঁর মুখ, বুক, পিঠ ও হাত ঝলসে যায়। ঘটনার পর মিলির মা রাশেদা বেগমও অ্যাসিডের আঘাতে আহত হন।
মিলির মা জানান, সফিকুল ইসলাম প্রায়ই তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত এবং মিলির অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সফিকুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পর প্রথমে মিলি এবং তাঁর মা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে মিলিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয় এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। তবে ১০ মাস ৫ দিনের চিকিৎসার পর সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মিলির বাবা আইয়ুব আলী বাদী হয়ে সফিকুল ইসলাম ও জাহিদকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে পাঠায়। চাঁদপুরের ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন অভিযুক্তরা। মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
মিলির বাবা আইয়ুব আলী তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলাম, অনেক টাকা খরচ করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। তাকে হারিয়ে আমি এখন সর্বস্বান্ত। যারা তাকে অ্যাসিড মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই।”
এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, যা সমাজে নারীদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করার তাগিদ দেয়।