
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী কাফনের কাপড় পরে এ বিক্ষোভে অংশ নেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কালীগঞ্জ এলাকা।
বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর সহধর্মিণী মুর্শিদা জামান বেল্টু। উল্লেখ্য, তারা দুজনই এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা রাশেদ খানকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অনেক নেতাকর্মীকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাফনের কাপড় পরে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে যারা এই এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কাজ করেছেন, তাদের বঞ্চিত করে শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে তৃণমূল বিএনপির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের মনোনয়নের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুর্শিদা জামান বেল্টু বলেন, “আমরা কোনো বহিরাগত প্রার্থী চাই না। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে এই আসনে দলকে শক্তিশালী করেছি। এখানে দলীয় নেতার হাতেই ধানের শীষ তুলে দিতে হবে।”
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খানকে ঝিনাইদহ-২ আসনে নির্বাচন করার কথা ছিল। আমরা আশা করেছিলাম আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরে ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করবেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে একজন বহিরাগতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।” এ সময় উপস্থিত জনতা তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে রাশেদ খানকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে ফরহাদ হোসেন ও শাকিল আহমেদ নামে দুই যুবক প্রকাশ্যে বিএনপির রাজনীতি না করার ঘোষণা দেন। তাদের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দুজনই উপজেলা যুবদলের কর্মী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় নেতারা জানান, এই আসন থেকে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, মুর্শিদা জামান বেল্টু এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তারা স্থানীয় রাজনীতিতে আলাদা আলাদা গ্রুপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন।
মনোনয়ন ইস্যুতে সৃষ্ট এই অস্থিরতা আগামী দিনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।