
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় খাল পুনঃখনন ও নদী তীর সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করেছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। শুক্রবার বারাকপুর ইউনিয়নে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কৃষি উন্নয়ন ও নদী ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবসময় গ্রামবাংলার উন্নয়ন, কৃষকের কল্যাণ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় দিঘলিয়ায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
উপজেলার বারাকপুর-দিঘলিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় কামারগাতি খালের ১ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে এ অঞ্চলের বহু খাল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সঠিক সময়ে পানি পৌঁছানো এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করা হবে।
পরে মোমিনপুর এলাকায় আতাই নদীর ভাঙন রোধে ৪৯১ মিটার দীর্ঘ নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের ফলক উন্মোচন করেন এমপি। এই প্রকল্পটি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA)-এর সহযোগিতায় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খালগুলো সচল হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হারুন অর রশিদ, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ফলক উন্মোচন শেষে এলাকার সার্বিক সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘদিন অবহেলিত এ অঞ্চলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শপথের পর প্রথম সফরেই খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় দিঘলিয়াবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর সমন্বয় অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুত দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ শুরু করায় সাধারণ মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন এমপি আজিজুল বারী হেলাল।