
ঝিনাইদহে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বিসিক শিল্প নগরী সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় শিল্প সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাটির আয়োজন করে পরিবেশ ও ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। এতে শিল্প উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন-এর পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ডা. ফরহাদ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক সেলিনা রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তর-এর সহকারী পরিচালক মুন্তাসির রহমান, ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এছাড়া সিইজিআইএসের পরিচালক কাজী কামরুল হাসান, সহযোগী বিশেষজ্ঞ আশরাফুল আলম, অর্থনীতিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও কৃষিবিদ তাইফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও সভায় বক্তব্য রাখেন। সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক এবং এলাকাবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা জানান, ঝিনাইদহ বিসিক শিল্প নগরী সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নতুন করে প্রায় ১০০ একর জমি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
তবে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি কৃষিজমি সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে শিল্পায়ন ও পরিবেশের মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ঝিনাইদহ বিসিক শিল্প নগরী সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি জেলার শিল্প উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।