
রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এ পরিস্থিতি নিয়ে জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা, বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় এবং রাজধানীর শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ জনাকীর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করছে। তাদের পরিকল্পনায় বোমা বিস্ফোরণ বা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে সহিংসতা চালানোর আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারেও হামলার মতো ভয়াবহ ছক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উগ্রবাদী এই গোষ্ঠীটি মূলত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (গোপন) কামরুল আহসানের সই করা এক দাপ্তরিক চিঠিতে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসমাগমস্থল ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থাকলেও সিটিটিসি ও পুলিশের অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিট বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সন্দেহভাজনদের শনাক্তে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই যেকোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা প্রতিহত করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।