
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষকদের সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি, সরকারি কৃষি সেবা সহজলভ্য করা এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান এবং শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান। এছাড়াও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কৃষকরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শৈলকুপা উপজেলার ভাটই কৃষি ব্লকের আওতাধীন দুধসর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটই, কুলচারা, ত্রিপুরাকান্দি ও মলমলী গ্রামের প্রায় ২ হাজার ৫০০ কৃষকের মাঝে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল ও আধুনিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা সম্ভব হবে।
বক্তারা বলেন, কৃষক কার্ড চালুর ফলে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ, সার-বীজ, ভর্তুকি এবং অন্যান্য কৃষি সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নেও এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও বলেন, কৃষক কার্ডের জন্য নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক কৃষককে সঠিক তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে জমা দিতে হবে। ভুল তথ্য প্রদান করলে ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই কৃষকদের সচেতনভাবে নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভা শেষে মাঠপর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শৈলকুপায় কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত কৃষকদের সনাক্তকরণ সহজ হবে এবং সরকারি কৃষি সহায়তা আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা এবং স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।