
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’। কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং কৃষিকে আরও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কংগ্রেসে অংশ নেন কৃষক, খামারি, কৃষি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের আগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা চত্বর থেকে বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে র্যালিটি পুনরায় উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে কৃষি উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. খুরশিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মীম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইশতিয়াক আহমেদ, পার্টনার দিনাজপুর অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ সঞ্জয় দেবনাথ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদুর রহমান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. সারওয়ার মুর্শেদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. জোবায়দা নাসরীনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে পার্টনার প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্যাকেজ প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খলা এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তি ও কলাকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কৃষক, খামারি, কৃষি উদ্যোক্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা কৃষি খাতের উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে মন্তব্য করেন।