
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যার মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের আম চাষ করে সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মা এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান মিজান। পরিকল্পিত বাগান ব্যবস্থাপনা, উন্নতমানের চারা নির্বাচন এবং নিয়মিত পরিচর্যার ফলে তিনি আজ একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
বর্তমানে মা এগ্রো ফার্মে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে নানা জাতের উচ্চ ফলনশীল আমের চাষ করা হচ্ছে। বাগানে রয়েছে বারি আম, আম্রপালি, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, মিয়াজাকি, কিং অব চাকাপাট, বারোমাসি আমসহ আরও বেশ কয়েকটি উন্নত জাতের আম। বিভিন্ন জাতের আম বিভিন্ন সময়ে পরিপক্ব হওয়ায় পুরো মৌসুমজুড়েই ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাজারে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছেও এসব আমের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান মিজান জানান, কৃষিকে একটি লাভজনক, আধুনিক এবং টেকসই পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য থেকেই তিনি বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ শুরু করেন। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা, রোগবালাই এবং বাজার ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলেও ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসরণ করে তিনি কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে তার বাগানে উৎপাদিত আমের স্বাদ, গুণগত মান এবং নিরাপদ উৎপাদন পদ্ধতির কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা সরাসরি বাগানে এসে আম সংগ্রহ করছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং কৃষক ও ক্রেতা—উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছেন।
মিজানুর রহমান মিজান আরও বলেন, “সঠিক পরিকল্পনা, উন্নত জাতের চারা নির্বাচন এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে আম চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি খাত। আধুনিক কৃষির মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।”
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, মিজানুর রহমান মিজানের সফলতা দেখে অনেকেই এখন উন্নত জাতের আম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তার বাগান পরিদর্শনে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও নতুন উদ্যোক্তারা আসছেন। ফলে মা এগ্রো ফার্ম বর্তমানে আধুনিক ফল চাষের একটি অনুকরণীয় মডেল এবং কৃষি প্রশিক্ষণের অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফল এবং বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ফল উৎপাদন বাড়ায় না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং নিরাপদ ফল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় যদি এ ধরনের আধুনিক কৃষি উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত করা যায়, তবে দেশের ফল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কাহারোলের মা এগ্রো ফার্ম সেই সম্ভাবনারই একটি সফল উদাহরণ।