
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষি সেচের একটি ডিপটিউবওয়েল দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডিপটিউবওয়েলের প্রকৃত মালিকানা ও পরিচালনার অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংশ্লিষ্ট সমিতির সদস্যরা। তারা দাবি করেন, সমিতির সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে দখল করে দীর্ঘদিন আর্থিক সুবিধা ভোগ করা হয়েছে এবং বর্তমানে পুনরায় নলকূপের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলার নলভাঙ্গা বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টিউবওয়েল সমিতির সদস্য শাহিনুর রহমান। এ সময় সমিতির প্রায় ১৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে শাহিনুর রহমান বলেন, ১৯৮৪ সালে গ্রামের ২১ জন সদস্যকে নিয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) নিয়ন্ত্রিত একটি ইঞ্জিনচালিত গভীর নলকূপ নলভাঙ্গা গ্রামের সৈয়দ আলী বিশ্বাসের জমিতে স্থাপন করা হয়। এই ডিপটিউবওয়েলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২৫০ বিঘা কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে চাষাবাদ পরিচালিত হয়ে আসছে।
তিনি জানান, শুরুতে সমিতির সদস্য জমিরুল ইসলাম নলকূপটি পরিচালনা করতেন। পরে একটি দুর্ঘটনায় টিউবওয়েলের ফ্যানে জড়িয়ে তার দুই হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমিতির সদস্যদের সম্মতিতে এবং জমির মালিকের পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে মাহবুবুর রহমানকে নলকূপ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দায়িত্ব পাওয়ার পর মাহবুবুর রহমান সমিতির বিদ্যুৎ মিটার নিজের নামে পরিবর্তন করে নেন। পরে ২০১৫ সালে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় তিনি জোরপূর্বক ডিপটিউবওয়েলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এরপর গত প্রায় এক দশক ধরে নলকূপ থেকে প্রাপ্ত আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব সমিতির সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
সমিতির সদস্যরা আরও জানান, ডিপটিউবওয়েলের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বর্তমানে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় চলতি বছরের জুন মাসে স্থানীয় কৃষকদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃত সমিতির সদস্যরা পুনরায় নলকূপটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। তবে এরপরও মাহবুবুর রহমান বিভিন্ন মহলে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে জালাল উদ্দীন ও আজিজুল লস্কার নামে দুই ব্যক্তি ডিপটিউবওয়েলের দখল পুনরায় মাহবুবুর রহমানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সমিতির সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সমিতির সদস্যদের হাতে ডিপটিউবওয়েলের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সদস্য শাহাজ্জেল হোসেন, জামির হোসেন, ইয়াকুব আলী, আজিজুলসহ মোট ১৫ জন সদস্য।