1. info@www.rtbdnews.com : RT BD NEWS :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ১,৫০০–৩,০০০ প্রাণহানির আশঙ্কা মুন্সীগঞ্জে বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেল ঝিনাইদহে খুলনা বিভাগীয় কীটনাশক ব্যবসায়ী সম্মেলন, সুষম কীটনাশক ব্যবহারে গুরুত্বারোপ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে জাতীয় স্বার্থভিত্তিক, কৌশলগত ভারসাম্যের কথা বললেন শামা ওবায়েদ বিমানের ওভারসিজ অ্যালাউন্সে হুন্ডির অভিযোগ, সাড়ে ৪ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন মহেশপুর পৌরসভার প্রকৌশলীকে ম্যানেজ নকশা জালিয়াতি, রাস্তা দখল করে চলছে ভবন নির্মাণ জিয়ানগরে সাঈদী সেতুর পিলারের গোঁড়া থেকে পরে ০১ জেলে নিখোঁজ ঝিনাইদহে ২৮ প্রজাতির দেশীয় ফল নিয়ে জমজমাট ফল উৎসব কাহারোলে শ্যামলবাংলা স্কুলে ২১ প্রজাতির দেশীয় ফল নিয়ে বর্ণাঢ্য ফল মেলা হরিণাকুন্ডুতে ছাদ বাগানের আনার চাষে বাজিমাত প্রবাস ফেরত যুবকের

মহেশপুর পৌরসভার প্রকৌশলীকে ম্যানেজ নকশা জালিয়াতি, রাস্তা দখল করে চলছে ভবন নির্মাণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় নকশা জালিয়াতির অভিযোগে রাস্তা দখল করে নির্মাণাধীন ভবনের চিত্র।

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, দলিলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পৌরসভার প্রকৌশলীকে প্রভাবিত করে ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। পরে তদন্তে নকশা জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্ত ভবন নির্মাণে পৌর কর্তৃপক্ষের একাংশের সহযোগিতার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে মহেশপুর পৌরসভার পশু হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মহুরি ও তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ৪ দশমিক ৪৫ শতক জমি কিনে নেন রাজিয়া খাতুন। জমির দলিল অনুযায়ী সেখানে ৭ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা সংরক্ষিত থাকার কথা ছিল।

তবে অভিযোগ রয়েছে, জমির দলিলে উল্লেখ থাকা ওই রাস্তার বিষয়টি গোপন রেখে ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানাকে প্রভাবিত করে নকশা অনুমোদনের পর সংরক্ষিত রাস্তার প্রায় ৪ ফুট অংশ দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন সাহাবুদ্দিন মহুরি।

এ ঘটনায় রাজিয়া খাতুন মহেশপুর পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর তদন্তে নকশা অনুমোদনে অনিয়ম ও তথ্য গোপনের বিষয়টি উঠে আসে বলে জানা গেছে। কিন্তু তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী রাজিয়া খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তিনি একাধিকবার পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কয়েক দফা সালিসি বৈঠকও হয়েছে। সালিসে রাস্তার ওপর নির্মিত অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত হলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভবন নির্মাণ বন্ধ করা হয়নি। বরং নির্বাহী প্রকৌশলী অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করছেন বলে তাঁর দাবি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাহাবুদ্দিন মহুরিকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, “এই কাজ হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি আমরা দেখছি।” তবে ঘুষ গ্রহণ বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভবন নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে এর আগে একটি সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি যেহেতু ভবন নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, তাই অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ চালানো যাবে না। ভবনের কাজ বন্ধের বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেখবেন বলেও জানান।

স্থানীয়দের দাবি, পৌর এলাকায় রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের মতো অভিযোগে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নকশা অনুমোদনে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 𝑹𝑻 𝑩𝑫 𝑵𝑬𝑾𝑺 আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট