
কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা ও অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটার প্রবণতা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। কৃষি জমির উপরি-স্তর কর্তন, খনন বা অনুমতি ছাড়া ভরাট করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠ প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সায়রাত অনুবিভাগ) সাবেরা আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলার কোথাও কোথাও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করেই অসাধু একটি চক্র রাতের আঁধারে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমির উপরি-স্তর কর্তন ও খননের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, কৃষিজমির উপরি-স্তর কর্তনের ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনের ওপর, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের অপরিকল্পিত কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও কৃষি খাতকে ক্ষতির মুখে ফেলছে।
চিঠিতে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ১৩ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়— জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য বা কর্ষণীয় জমির উপরি-স্তর কর্তন করা অথবা রেকর্ডীয় মালিকের অনুমতি ছাড়া জমি বালু বা মাটি দিয়ে ভরাট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।
এই প্রেক্ষাপটে ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করে কৃষিজমি সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠির অনুলিপি অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), ভূমি মন্ত্রণালয় ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশে সমন্বিতভাবে এই আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।