
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ায় জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জারি করা এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা গেলে বা বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই দেরি না করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতার বার্তা হিসেবে তারা স্পষ্ট করে বলেছে—“বজ্রধ্বনি শুনলেই ঘরে আশ্রয় নিন।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বজ্রপাতের সময় শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের ভেতরে অবস্থান করা সবচেয়ে নিরাপদ। এ সময় খোলা মাঠে খেলাধুলা, ঘুড়ি ওড়ানো কিংবা দলবদ্ধভাবে বাইরে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ বজ্রপাত সাধারণত খোলা জায়গায় বেশি আঘাত হানে, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।
বাড়ির ভেতরে থাকলেও কিছু সতর্কতা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হবে এবং জানালার গ্রিলসহ কোনো ধাতব অংশ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া শিলাবৃষ্টি হলে তা কুড়াতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, বাইরে অবস্থান করলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে, ধাতব ছাউনির নিচে বা খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একইভাবে নদী, হাওর বা জলাশয়ে মাছ ধরা কিংবা পানিতে নামাও বিপজ্জনক হতে পারে। এ সময় বৈদ্যুতিক লাইন, ধাতব বস্তু এবং সংযুক্ত যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, বজ্রধ্বনি শোনা মানেই আপনি বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাই শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পরও অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা উচিত। সচেতনতা ও সতর্কতা বজায় রাখলে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।