
স্মার্টফোনের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং অবৈধ ও আন-অফিসিয়াল হ্যান্ডসেটের দাপট বন্ধ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মোবাইল ফোন আমদানিতে মোট করের হার বিদ্যমান ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম বলেন, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। আগে যেখানে কাস্টমস ডিউটি ছিল ২৫ শতাংশ, সেখানে এখন তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের মোবাইল ফোন শিল্প আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, কর কমানোর কারণে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারিং খাত আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এতে নতুন বিনিয়োগকারীরা এই শিল্পে আগ্রহী হবেন এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম আরও বলেন, বর্তমানে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দেশে আনা হচ্ছে। এসব ফোন কিছুটা রিপাবলিশ করে বাজারে বিক্রি করা হয়, যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হন এবং সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। নতুন কর কাঠামোর ফলে দেশীয় উৎপাদিত মোবাইল ফোনের চাহিদা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে বাজারে মোবাইল ফোনের দাম কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, বাজারে আন-অফিসিয়াল ও চোরাই মোবাইল ফোনের বিস্তার ঠেকাতেই সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে মানসম্মত পণ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।