
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি, লৌহজং ও সদর উপজেলার বিভিন্ন নদীতে নতুন কৌশলে মাছ শিকারের নামে অবৈধভাবে নদী দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর বিস্তীর্ণ অংশে বাঁশ ও জালের স্থায়ী কাঠামো স্থাপন করে একচ্ছত্রভাবে মাছ শিকার করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নৌযান চলাচল ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাঝ বরাবর সারিবদ্ধভাবে বাঁশের খুঁটি পুঁতে জালের জটিল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থাপনার কারণে নদী কার্যত কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, মাছের প্রজনন মৌসুমেও নদী অবরোধ করে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং নদীর জৈব বৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জেলেদের অভিযোগ, অনিক হালদার, আমান উল্লাহ সরকার, নুরু খা, জাফর খা, সত্তর খা ও মন্নান খা-এর তত্ত্বাবধানে অন্তত ২০টি বড় আকারের ‘বের বেশাল’ পরিচালিত হচ্ছে। এসব বের বেশালের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ বিক্রি হলেও সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে বলেন, “এই চক্র এতটাই প্রভাবশালী যে আমাদের নদীতে নামতেই দেয় না। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরিবার নিয়ে বাঁচার মতো মাছ ধরার সুযোগও থাকছে না।” তার মতো অনেক জেলেই নদীতে মাছ ধরার অধিকার হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা মৎস্য বিভাগসহ সদর, টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলার সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করেই শতাধিক স্থানে এভাবে নদী দখল করে মাছ শিকার চলছে। একেকটি ঘের থেকে প্রতিদিন লাখ টাকার মাছ ধরা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি ঘের থেকেই ২২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয় জেলেরা।
পরিবেশ সচেতন মহল সতর্ক করে বলছে, এভাবে নদী দখল ও অবৈধ মাছ শিকার চলতে থাকলে অচিরেই এসব নদী মৃত জলাশয়ে পরিণত হবে। তারা অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর ওপর স্থায়ী বাঁশ ও জালের কাঠামো শুধু মাছ শিকারের সুযোগ সীমিত করছে না, বরং নৌপথে চলাচলকারী মানুষের জীবনও চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে নদী, মানুষ আর জীবিকা—সবই ধ্বংস হয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. নিগার সুলতানা বলেন, অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।