
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তের ওপারে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট সীমান্তে যুবক নিহত—এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত যুবকের নাম সাদ্দাম হোসেন। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের বাসিন্দা কুটু মিয়ার ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সাদ্দাম আরও তিনজনের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
সাদ্দামের পরিবারের দাবি, সীমান্তের ওপারে তাকে কোমর ও পায়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার বড় ভাই নিজাম উদ্দিন জানান, “আমার ভাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মোবাইল সঙ্গে নেয়নি। পরে জানতে পারি, সে অন্যদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়েছে। আমাদের ধারণা, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।”
একই ঘটনায় সাদ্দামের সঙ্গে যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন। তাদের একজন, সাদ্দামের বন্ধু আবু বক্কর, শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যদের পুরো ঘটনা জানান।
এদিকে রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত নিহতের মরদেহ উদ্ধারের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। শনিবার সাদ্দামের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। পুলিশ বিষয়টি সীমান্ত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা শুনেছি মরদেহ সীমান্তের ওপারে পড়ে আছে। মরদেহ দেশে আনা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সিলেট বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, বিএসএফের কাছে তাদের সীমান্ত এলাকায় কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএসএফ এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। একই সঙ্গে স্থানীয়দের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ যাতায়াতের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে, যা প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।