
কসময় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী করপোরেট শক্তি ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। উপমহাদেশে বাণিজ্য থেকে শাসনক্ষমতা—দুই ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাব ছিল বিস্তৃত। প্রায় দেড় শতাব্দী আগে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এই কোম্পানির কার্যক্রম শেষ হয়। এবার একই নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা আধুনিক বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ডটিও দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে–র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, লন্ডনভিত্তিক বিলাসপণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ সালের অক্টোবরে লিকুইডেশনে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট দেনা প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর বেশি। এর মধ্যে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত মূল কোম্পানির কাছে ৬ লাখ ইউরোর বেশি বকেয়া রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ইউরো কর এবং প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ইউরো কর্মীদের পাওনা রয়েছে।
লন্ডনের মেফেয়ারের ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে অবস্থিত কোম্পানিটির ফ্ল্যাগশিপ স্টোর বর্তমানে বন্ধ। দোকানটি ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটও অচল হয়ে পড়েছে। ফলে বিলাসবহুল চা, চকলেট, মসলা ও প্রিমিয়াম পণ্যের ব্যবসা কার্যত থেমে গেছে।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ প্রথম–এর জারি করা সনদের মাধ্যমে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এটি একটি জয়েন্ট-স্টক ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
পরবর্তীতে কোম্পানিটি উপমহাদেশে শাসনক্ষমতা অর্জন করে। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার কোম্পানির কাছ থেকে ব্রিটিশ সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়। ১৮৫৮ সালে শুরু হয় সরাসরি ব্রিটিশ রাজ। শোষণ, লুটপাট ও দুর্ভিক্ষের মতো ঘটনার কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ও কুখ্যাত নাম হিসেবে পরিচিত। বাংলার দুর্ভিক্ষসহ বহু মানবিক বিপর্যয়ের সঙ্গে এই সময়কাল জড়িত।
২০১০ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় উদ্যোক্তা সাঞ্জিভ মেহতা কোম্পানিটির নামের স্বত্ব কিনে নেন। এরপর লন্ডনে বিলাসপণ্যের খুচরা ব্র্যান্ড হিসেবে এটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। মেফেয়ারে প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি দোকানে উচ্চমানের চা, চকলেট, মিষ্টান্ন, মসলা ও অন্যান্য প্রিমিয়াম পণ্য বিক্রি শুরু হয়।
তবে ইতিহাসের মতো আধুনিক সংস্করণও শেষ পর্যন্ত ব্যবসায় টিকে থাকতে পারল না। অর্থনৈতিক চাপে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি লিকুইডেশনে চলে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিক নামের প্রতি কৌতূহল থাকলেও বাজার প্রতিযোগিতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে ব্র্যান্ডটি টেকসই হতে পারেনি।