
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)-এর আওতাধীন এ এলাকায় দিনে-রাতে ১০ থেকে ১২ বার বা তারও বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ফলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ এই বিদ্যুৎ সংকটে অসহনীয় সময় পার করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি সেচ কার্যক্রম ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “দিঘলিয়ায় যেন বিদ্যুৎ নেই, আছে শুধু লোডশেডিংয়ের দুঃস্বপ্ন।”
উপজেলা সদরের বাসিন্দা সালাউদ্দিন মোল্লা বলেন, “বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে পরীক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা সবাই বিপাকে পড়েছেন।” তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।
এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসফিয়া তাসনিম (তানিশা), নুসরাত ও বর্ষা জানায়, “রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। সন্ধ্যার আগেই দোকান বন্ধের চাপ এবং বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে আয়-রোজগার কমে গেছে। কম্পিউটার ব্যবসায়ী মফিজ শেখ বলেন, “কাজের সময় বিদ্যুৎ থাকে না, আবার বিদ্যুৎ থাকলে কাজ থাকে না—এভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এদিকে দিঘলিয়া উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।”
তিনি আরও জানান, বিদ্যুতের অপচয় রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং গ্রাহকদের এসি ব্যবহার সীমিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে ২৫ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা না নামানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা কেন্দ্রের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়তে পারে।