উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে “প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬”-এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ছোট ছোট খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো মাঠ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বালক ও বালিকা—দুই বিভাগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। দর্শক সারিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস কে আজিজুল বারী হেলাল, সংসদ সদস্য, খুলনা-৪ আসন। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন শেখ অহিদুল আলম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খান জুলফিকার আলী জুলু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টি এম শাহ আলমসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
খেলার ফলাফলে বালিকা বিভাগে ৩-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় বোয়ালিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানারআপ হয় পানিগাতী পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে বালক বিভাগে ১-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় সুগন্ধি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানারআপ হয় লাখোহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন তালুকদার তকদির হোসেন, মো. নাজমুল হোসেন ও রোমেল বায়জিদ। খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও রানারআপ দলগুলোর মাঝে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করেন।
বক্তারা বলেন, এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও দলগত মনোভাব গড়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। পুরো আয়োজন ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ, যা দিঘলিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।