
দেশীয় ফলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার শ্যামলবাংলা স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ফল মেলা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেলায় ২১ প্রজাতির দেশীয় ও মৌসুমি ফলের সমারোহ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের দৃষ্টি কেড়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত এ ফল মেলায় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্টলে বিভিন্ন দেশীয় ও মৌসুমি ফল আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করে। রঙিন সাজসজ্জা, ফলের বৈচিত্র্য এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অংশগ্রহণে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
মেলায় আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, জাম, আনারস, কলা, তরমুজ, পেঁপে, মাল্টা, ডালিমসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল প্রদর্শন করা হয়। প্রতিটি ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং খাদ্যাভ্যাসে এর গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত দর্শনার্থীদের তথ্য জানায়। ফলে মেলাটি শুধু প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও রূপ নেয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেশীয় ফলের পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। সেই প্রবণতা কমিয়ে দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করাই ছিল এই ফল মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এমন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আয়োজকদের মতে, ফল মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন দেশীয় ফল সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করছে, তেমনি দলগত কাজ, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং সৃজনশীল চিন্তাশক্তিরও বিকাশ ঘটছে। একই সঙ্গে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।