
দেশীয় ফলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করা, পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব। শহরের কলাবাগান এলাকায় অবস্থিত ঝিনাইদহ ল্যাবরেটরি স্কুলে আয়োজিত এই উৎসবে ২৮ প্রজাতির দেশীয় ফল প্রদর্শন করা হয়। রঙিন ফলের সমারোহে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এ ফল উৎসবে বিদ্যালয়ের পরিচালক ইসাহাক আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবক বাবলু খাঁন, হাসান আশকারি এবং ঝিনাইদহ ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিজা ফেরদৌস।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, খেজুর, ডেউয়া, লটকন, কলাসহ ২৮ প্রজাতির দেশীয় ও মৌসুমি ফল আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে প্রদর্শন করা হয়। প্রতিটি ফলের নাম, পুষ্টিগুণ, ভিটামিনের উৎস এবং স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বইয়ের বাইরেও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশীয় ফল সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
উৎসব ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে বিভিন্ন ফলের পরিচিতি তুলে ধরছে এবং দর্শনার্থীদের কাছে প্রতিটি ফলের পুষ্টিমান ব্যাখ্যা করছে। ফলের রঙ, বৈচিত্র্য ও সৃজনশীল উপস্থাপনায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
আয়োজকরা জানান, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এই প্রবণতা কমিয়ে দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু দেশীয় ফল সম্পর্কে জানতেই সহায়তা করে না, বরং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ফল উৎসব নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
অভিভাবক ও অতিথিরাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, বিদ্যালয়ভিত্তিক এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।