
দেশে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনীতিতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। তবে ইতিবাচক দিক হলো—প্রবাসী আয় আগের তুলনায় বেড়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সভায় চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, অর্থনীতিতে মন্দাভাব থাকলেও উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখতে এডিপির আকার কমানো হয়নি।
এডিপি বাস্তবায়নের গতি কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন,
দুর্নীতির কারণে অনেক পুরোনো প্রকল্প পরিচালকের খোঁজ পাওয়া যায়নি
নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে সময় লেগেছে
বহু প্রকল্প সংশোধন করতে হয়েছে
দরপত্রের নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে
এসব কারণেই অন্যান্য বছরের তুলনায় এডিপি বাস্তবায়নের হার কম হয়েছে বলে জানান তিনি।
এনইসি সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা। এর মধ্যে রয়েছে—
প্রকল্প পরিচালকদের জন্য আলাদা পুল গঠন
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প পরিকল্পনা উপদেষ্টা অনুমোদন দেবেন
৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প একনেকে পাঠানো হবে
তিনি বলেন, এডিপির জন্য প্রকল্পের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। “রাজনৈতিক সরকারের সময়ে প্রকল্পের হিড়িক লেগে যেত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যাচাই–বাছাই করে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। অনেক মন্ত্রণালয় প্রকল্প প্রস্তাবই পাঠাচ্ছে না।”
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সামাজিক খাতে বিদেশি ঋণ নিয়ে কোনো দেশ উন্নত হয়েছে—এমন নজির নেই। আগে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রস্তাব এলেই ঋণ নেওয়া হতো, কিন্তু উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করা হতো না।
তিনি জানান, পায়রা বন্দর, মেট্রোরেলসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকার নেবে।
বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পটি কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। এমনকি অবকাঠামো ভেঙে ফেললেও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে।
চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবায়ন ধীরগতির কারণে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা।
স্থানীয় উৎস: ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা → কমিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা
প্রকল্প সহায়তা (বিদেশি ঋণ): ৮৬ হাজার কোটি টাকা → কমিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকা
সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০টি বড় প্রকল্প থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ কমানো হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বরাদ্দ অপরিবর্তিত
ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বরাদ্দ বেড়েছে
বরাদ্দ কমানো হয়েছে যেসব প্রকল্পে— মেট্রোরেল এমআরটি-৬, মেট্রোরেল এমআরটি-১, এমআরটি-৫ উত্তরাংশ, হাটিকুমরুল–রংপুর চার লেন সড়ক, ঢাকা–সিলেট চার লেন সড়ক, মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, বিমানবন্দর–গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প।