
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতের শুরুতে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় জহির উদ্দিন স্বপনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। পরে উভয়ের মধ্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রযুক্তি, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। তিনি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘দ্য অফিস অব কমিউনিকেশনস’ (অফকম)-এর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের গণমাধ্যম নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, “অফকম-এর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে আধুনিক নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।”
এ সময় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি অফকম-এর কার্যক্রম, গণমাধ্যম তদারকি পদ্ধতি এবং তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিজ্ঞতার বিষয়েও মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
এদিকে, একই দিনে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলিও পৃথকভাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতও মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
সুইস রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতেও কাজ করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুইজারল্যান্ডের আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি এটি তথ্য যাচাই ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে তিনি সুইজারল্যান্ডকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।