
সদ্যবিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির খবর।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত মার্চ মাসে। সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। ফলে ডিসেম্বরের রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিহাসে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিসংখ্যানেও বড় চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বাধিক ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণেও ডিসেম্বরজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে আসে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বর আসে ৬৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ২১ থেকে ২৭ ডিসেম্বর প্রবাসীরা পাঠান ৫৭ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের চার দিনেই দেশে আসে ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। মাসের প্রথম ছয় দিনেই এসেছিল ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
এর আগের মাসগুলোর তুলনাতেও ডিসেম্বরের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আসে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া আগস্টে এসেছে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এদিকে, পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয়ের রেকর্ড। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই রেমিট্যান্স প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।