
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে উপজেলা মডেল মসজিদে টিকটক ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশ্ন তুলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নবম শ্রেণির ভোকেশনাল (জেনারেল ইলেকট্রনিক্স) বিভাগের শিক্ষার্থী সিনথিয়া আক্তার শান্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র প্রদান করে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নেচে-গেয়ে একটি টিকটক ভিডিও ধারণ করেন ওই শিক্ষার্থী। পরে ‘রিফাত প্রেস’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি শৃঙ্খলা পরিপন্থী। বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তরুণ-তরুণীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সংবেদনশীল স্থানে ভিডিও ধারণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা চললেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে।