
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসানোকে কেন্দ্র করে আগাম প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো হাটের ইজারা বা অনুমোদনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও স্থানীয়ভাবে ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে প্রচারণা শুরু করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি পরিচালনা কমিটি গঠনের কথাও বিভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। প্রচারিত তালিকায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ জামান অ্যাপোলো, ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান দেওয়ানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ওই হাটের ইজারা বা অনুমোদন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হাট পরিচালনার প্রচারণা চালানো নিয়মবহির্ভূত এবং এটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই হাট বসানোর প্রচারণা চালানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই এ ধরনের প্রচারণা অনৈতিক এবং এটি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসাইল বানারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ জামান অ্যাপোলো বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে হাট হবে কি না—এ নিয়ে সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহ দূর করতেই প্রচারণা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মানুষের আগ্রহ ও প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি অনুমোদনের আগে প্রচারণা চালানো অবৈধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ না করে আগাম প্রচারণা চালানো হলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।