
বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যকার বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বেইজিং ত্যাগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ট্রাম্পকে বহনকারী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন জটিল ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু সমস্যার সমাধানও হয়েছে। তবে তাইওয়ান, ইরান ও বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি হয়নি।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের হাতে কোনো পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়—এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে চীনের স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ সফরকে ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গঠনমূলক ও স্থিতিশীল করার নতুন ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
শি জিনপিং বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করতে চান, আর আমি চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফরকে ‘অত্যন্ত সফল, বিশ্বখ্যাত ও অবিস্মরণীয়’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি শি জিনপিংকে পুরোনো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানান।
বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল তাইওয়ান ইস্যু। শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়। এটি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে ভবিষ্যতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এর জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই বৈঠক বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।