ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলা, ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদকে। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদুসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ঘুষি, ইটপাটকেল, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী ছাড়াও তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়। এছাড়া হামলার সময় একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার তথ্যমতে, ছিনতাই হওয়া মালামালের মধ্যে একটি সনি আলফা এ৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড ছিল। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিপির অভিযোগ, হামলার পর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় হামলাকারীরা এনসিপি নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে মামলা দায়েরের পর ঝিনাইদহ সদর থানা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীসহ এনসিপির নেতারা থানা থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সদর থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা থানার গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বাইরে থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে থানা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীসহ এনসিপির নেতারা কিছু সময়ের জন্য থানার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা ঘটনাস্থলে এসে নেতাকর্মীদের শান্ত করেন এবং থানার সামনে থেকে সরিয়ে নেন। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ পাহারায় নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীসহ এনসিপি নেতাদের নিরাপদে থানা এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদউজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এনসিপির নেতাকর্মীরা ঝিনাইদহ ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।