
মুন্সীগঞ্জে র্যাবের অভিযানে দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি প্রাচীন ও দুর্লভ কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) রাত দেড়টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আটপাড়া ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ সাফল্য অর্জন করে র্যাব-১০।
র্যাব-১০ এর সিপিসি-২ শ্রীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ইয়াসির তাজবী পান্থ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ১৪১ কেজি ওজনের একটি কালো রঙের প্রাচীন কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২৪ ইঞ্চি। উদ্ধারকৃত এই প্রত্নসম্পদের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ফকিরা গ্রামের মৃত আজাহার চোকদারের ছেলে মো. ইদ্রিস চোকদার (৫৪) এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের মৃত জামাল হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৫২)। অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা একটি আন্তর্জাতিক প্রত্নসম্পদ পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাচীন ও মূল্যবান প্রত্নসম্পদ সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করে আসছিলেন। উদ্ধার হওয়া এই বিষ্ণু মূর্তিটিও বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে তারা জানিয়েছেন।
র্যাব জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এই পাচারকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রাচীন প্রত্নসম্পদ শুধু ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দিক থেকেই নয়, বরং ঐতিহাসিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এগুলো সংরক্ষণ এবং পাচার রোধে কঠোর নজরদারি অপরিহার্য।