
বালুখেকোদের তাণ্ডব,সেতুকর্তৃপক্ষ-প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতার কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের প্রথম ছয় লেনের আইকনিক তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু।
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু। ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর-মদনগঞ্জ এলাকায় এর অবস্থান। এই সেতু নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর ও বন্দরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সাথে পদ্মা সেতুর যোগাযোগ সহজ করেছে। এটিকে পদ্মাসেতুর সংযোগ সেতুও বলা হয়ে থাকে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে একটি লাইফলাইন হিসেবে দন্ডায়মান। বার্ষিক টোল আদায় ও পণ্যপরিবহনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার বানিজ্যে ভূমিকা রাখছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা এই সেতুটির নারায়ণগঞ্জ সদর সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকার প্রান্তে প্রায় সব পিলারেরই নীচে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। গভীর পুকুরে পরিণত হতে যাচ্ছে এই সেতুটির পিলারগুলোর স্থানগুলো। পিলারের আশেপাশে মাটিতে ফাটল ও গভীর গর্তও দেখা গেছে। ভয়ানক দূর্ঘটনা ও ক্ষতিরমুখে পতিত হয়ে নীরবে ধুঁকে ধুঁকে বয়ে যাচ্ছে সকল পরিবহন-অর্থনীতির চাপ। কিন্তু জাতীয় এই সেতুটিকে রক্ষণাবেক্ষণে কোন চাপ অনুভব করছে কি যথাযথ কর্তৃপক্ষ?
এই সেতুটির পশ্চিম দিকে মুন্সিগঞ্জ-ঢাকার সংযোগ সড়ক ও উড়াল সেতুর পিলার খননের উত্তোলিত মাটিগুলো নিয়ে একটি মহল বানিজ্য করার উদ্দেশ্যে এই সেতুটির নীচে যেমন জমা করে রেখেছিলো তেমনি এখান থেকেই বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বালুখেকো ভূমিদস্যূরা সেতুর পিলারগুলোর মাটিও কেটে নিয়ে গেছে।
এই সেতুর পিলারগুলোর পাশ-নীচ থেকে মাটি কেটে আরো ভয়ংকর অবস্থা তৈরী হয়েছে পশুর হাট বসিয়ে। নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন পশুর হাট এলাকায় পরিদর্শন ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে আগাম সর্তকতা জারী করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছে। স্থানীয় সাধারণ জনগন প্রশ্ন করছে, সিটিকর্পোরেশন পশুরহাট দিয়ে কি সেতু থেকেও বেশী রাজস্ব আয় করেছে? কি করছে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন?
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেতুর পিলার থেকে মাটি কাটার কোন সুযোগ নেই,পশুর হাটটি সিটিকর্পোরেশন থেকে দেয়া হয়ে ছিলো। দেশের সম্পদ রক্ষার্থে আমি সমন্বিতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে যে, নারায়ণগঞ্জের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের মোট চূড়ান্ত ব্যয় ৬০৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আর এইবারের শীতলক্ষ্যা সেতুর নীচে পশুর হাট বসার অনুমতি দিয়ে সরকার সর্বোচ্চ পেতে পারে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। তাহলে ৫০ লাখ টাকা আয়ের জন্য ৬০৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সেতু কি বিসর্জন দেয়া যৌক্তিক হতে পারে?
সাধারণ মানুষ বলছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ যেন, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুকে ধসে পড়ার হুমকী থেকে বাঁচাতে পিলারগুলোতে অতিদ্রুত তদন্তমূলক ব্যাবস্থা গ্রহন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভবিষ্যতে পুনরায় মাটিকাটা বা কোন হুমকীর মুখে না ফেলার ব্যাবস্থা স্থায়ীভাবে গ্রহন করে দেশের সম্পদ রক্ষা করবেন।