
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় এক রাতের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রশিদকে শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও রাতভর তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরে রোববার ভোরে নেহালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মক্তবখানা এলাকায় আব্দুর রশিদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
এদিকে একই রাতে উপজেলার একই এলাকায় মো. কালু মিয়ার ছেলে সাগরকেও হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক সন্তানের জনক সাগরের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত আব্দুর রশিদ ও সাগর দুজনই নিজ নিজ পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। তাদের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের সদস্যদের জীবিকা। ফলে এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় শুধু দুটি পরিবারই নয়, পুরো এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
একই রাতে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যাকাণ্ড দুটির রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এক রাতেই দুই ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাই দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।