
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে আয়োজিত র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম, মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ নাজমা নাহার, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ।
এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত সচেতনতার বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারা সবাইকে নিজ নিজ বাড়িঘর, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
এ সময় বক্তারা বিশেষভাবে সতর্ক করেন, যাতে কোথাও পরিষ্কার পানি জমে না থাকে। কারণ এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। ফলে ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, ভাঙা পাত্র কিংবা ছাদের পানির ট্যাংকের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তারা একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মুন্সীগঞ্জ গড়ে তুলতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ডেঙ্গুমুক্ত মুন্সীগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।