
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা সড়কে বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা কাদার কারণে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার খ্রিষ্টান মিশন সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার সড়কজুড়ে কাদা ও পিচ্ছিল অবস্থার সৃষ্টি হলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার খবর জানানো হলেও উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টার পর বৃষ্টির কারণে সড়কের ওপর পড়ে থাকা মাটি কাদায় পরিণত হয়। এতে সড়কটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একের পর এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১৫টি যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে এবং চালক ও যাত্রীসহ অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আরিফ মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি এবং আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, প্রায় ৩০০ মিটার সড়কজুড়ে মাটি পড়ে রয়েছে, যা বৃষ্টির পানিতে কাদায় পরিণত হয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ওই অংশে পৌঁছেই মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছিল।
দুর্ঘটনায় আহতদের একজন উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জনি। তিনি জানান, তার বাড়িতে ঢাকা থেকে আসা দুই অতিথি—জীবন চৌধুরী ও সজিব বিশ্বাস মোটরসাইকেলে করে রেলস্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। পথে কাদাযুক্ত ওই অংশে এসে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন এবং আহত হন। একইভাবে আরও অনেক যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, পাশের একটি মাঠ থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে একটি পুকুর ভরাটের কাজে নেওয়া হচ্ছিল। পরিবহনের সময় সড়কে বিপুল পরিমাণ মাটি পড়ে যায়। পরে বৃষ্টির পানিতে তা কাদায় পরিণত হয়ে সড়ককে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, মাটি অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলেই এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যিনি সড়কে মাটি ফেলে কাদা সৃষ্টি করেছেন, তাকেই ওই কাদা পরিষ্কার করতে হবে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এদিকে স্থানীয়দের অনুরোধে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যকর উদ্যোগের অভাবের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে স্থানীয় সাংবাদিকরা সড়কে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেন। তারা পথচারী ও যানবাহন চালকদের সতর্ক করেন এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়তা করেন। এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের প্রশংসা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জননিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সড়কে মাটি ফেলা, অবৈধ মাটি পরিবহন এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।