রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামে দেখা মিলেছে বিশাল আকৃতির এক গরুর। ‘রাজবাড়ীর বস’ নামের এই গরুটি এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশাল দেহ, রাজকীয় হাঁটা ও আকর্ষণীয় গঠনের কারণে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে ভিড় করছেন।
দর্শনার্থীদের অনেকে বলছেন, “এত বড় গরু এই জেলায় আগে দেখা যায়নি। এটি দেখতে যেন জলহস্তির মতো।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মোহাম্মদ আলীর বাড়ির উঠানের পাশে একটি ঘরে সাদা-কালো রঙের গরুটি রাখা হয়েছে। গরম থেকে বাঁচাতে ফ্যানের বাতাস দেওয়া হচ্ছে। খাবার হিসেবে রাখা হয়েছে খড়, চালের কুঁড়া, খৈল, ছাল ও সবুজ ঘাস।
গরুটির মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, “এটি আমাদের বাড়ির গাভির বাছুর। তিন বছর ধরে সন্তানের মতো যত্ন করে বড় করেছি। তাই নাম দিয়েছি ‘রাজবাড়ীর বস’। আমার জানা মতে, রাজবাড়ীতে এত বড় গরু আর নেই।”
তিনি জানান, ফিজিয়ান জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ৩৬ মণ। উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৭ ফুট। কোনো ধরনের ইনজেকশন ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটি বড় করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, “বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার খাবার লাগে। আমি গরিব মানুষ। তাই গরুটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রায় ১০ লাখ টাকা দাম আশা করছি।”
গরুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা তার ছেলে করিম শেখ বলেন, “সকাল, দুপুর ও রাতে তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। অনেক মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। কেউ কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা কুদ্দুস প্রামাণিক, সালাম প্রামাণিক ও জব্বারসহ অনেকেই জানান, এত বড় গরু তারা আগে কখনো দেখেননি। তারা বলেন, “মোহাম্মদ আলী অনেক যত্ন করে গরুটি লালন করেছেন। প্রতিদিন মানুষ গরুটি দেখতে আসছে।”
হাবাসপুর থেকে গরুটি দেখতে আসা আনসুর রহমান বলেন, “গরুটি দেখে মনে হয়েছে যেন জলহস্তি! জীবনে এত বড় গরু দেখিনি।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “‘রাজবাড়ীর বস’ বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় গরু। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত গরুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে এবং খামারিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত বড় গরু লালন-পালনে খামারিদের নিরুৎসাহিত করা হয়। কারণ এসব গরুর ক্রেতা পাওয়া কঠিন এবং হাটে নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। গরমে বড় গরু সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।