
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত “মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম” প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা সরকারি গ্রেডে বেতন-ভাতার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ, কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ান নাহিদের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা বিস্তার ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪১ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
শিক্ষকরা জানান, তারা শুধু শিশুদের পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন; বরং সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তারা এখনও স্বল্প বেতন ও অনিশ্চিত চাকরিজীবনের মধ্যে রয়েছেন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে অনেক শিক্ষককে।
তাদের দাবি, প্রকল্পটি দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে সরকারি গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তারা মনে করেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে উপজেলা পরিষদ গেটে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, শিক্ষক নেতা হাবিবুর রহমান পলাশ, নাজমুল হাসান ও সাকাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে হাজারো শিক্ষক পরিবারের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।