আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানিকৃত পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং চামড়া ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভার সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম এবং মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, এ বছর মুন্সীগঞ্জ জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৭১১টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৪৪ হাজার ২৬২টি এবং ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ২৩ হাজার ৪৪৯টি।
চামড়া সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে গত বছরের মতো এবারও লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করবে এমন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোকে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, জেলায় বর্তমানে ২০৫টি নিবন্ধিত এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রায় ১৫৪ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হবে।
এছাড়া চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম তদারকি, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম ও কন্ট্রোল রুম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় কোরবানির পশু সঠিক নিয়মে জবাই, দক্ষতার সঙ্গে চামড়া ছাড়ানো, পশু জবাইয়ে নিষ্ঠুরতা পরিহার এবং ‘নাইফ-কাট’ প্রতিরোধে কসাইদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রয়োজনে উন্মুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে জেলায় সুলভ মূল্যে লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে।